Subscribe Us

মাযহাবের গোড়ামী ছাড় —কুরআনের আলোয় ফিরে আসার ডাক”

 “মাযহাবের গোড়ামী ছাড় —কুরআনের আলোয় ফিরে আসার ডাক”


হে আমার রব!
আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই
শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে।
আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই
যেন তারা আমার নিকটে উপস্থিত না হয়।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য,
যিনি সকল জগতের প্রতিপালক।
শান্তি বর্ষিত হোক তাদের উপর,
যারা হেদায়েত অনুসরণ করে।

বন্ধুগণ!
আজ আমি এমন একটি কথা বলতে দাঁড়িয়েছি,
যা অনেকের কাছে অস্বস্তিকর লাগতে পারে,
কিন্তু এই কথাটা বলা জরুরি।
আমরা কি সত্যিই কুরআনের পথে আছি,
নাকি আমরা কাঠামোর ভেতরে বন্দি হয়ে গেছি,
যেই কাঠামো আমাদের কুরআন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
আমরা নামাজ পড়ি, আমরা রোজা রাখি,
আমরা ইসলামের দাবি করি,
কিন্তু আমরা কি কুরআনকে আমাদের জীবনের কেন্দ্র বানিয়েছি।
আমরা কি নিজেরা কুরআন খুলে পড়ি,
বুঝার চেষ্টা করি,
নাকি আমরা সবকিছু অন্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছি।

বন্ধুগণ!
এক সময় মুসলিম উম্মাহ ছিল খুব সহজ এবং পরিষ্কার পথে।
তখন তাদের সামনে একটাই বই ছিল,
সেটি কুরআন।
তারা কুরআন শুনতো, বুঝতো,
এবং সেটাকে জীবনে প্রয়োগ করতো।
তাদের মাঝে এমন কোনো বিভাজন ছিল না,
এমন কোনো দেয়াল ছিল না,
এমন কোনো পরিচয়ের লড়াই ছিল না।
তারা নিজেদেরকে শুধু মুসলিম বলেই পরিচয় দিতো,
এবং এই পরিচয়ের মধ্যেই তারা গর্ববোধ করতো।

বন্ধুগণ!
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আমাদের চারপাশে,
অদৃশ্য কিছু দেয়াল তৈরি হয়েছে।
এই দেয়াল ইট-পাথরের নয়,
কিন্তু এর শক্তি অনেক বেশি।
এই দেয়াল আমাদের চিন্তাকে আটকে দেয়,
আমাদের প্রশ্নকে থামিয়ে দেয়,
আমাদেরকে বলে—তুমি নিজে বুঝতে পারবে না।
আমরা এই কথাগুলো শুনতে শুনতে
এমন জায়গায় চলে এসেছি,
যেখানে আমরা নিজেরাই নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি।

বন্ধুগণ!
আমরা যখন কুরআন খুলতে চাই,
তখন অনেকেই আমাদের বলে—এই বিষয়টা জটিল,
এটা তোমার বোঝার বিষয় না,
তুমি অমুকের কথা শোনো,
তমুকের বই দেখো।
আমরা ধীরে ধীরে নিজের চিন্তাশক্তিকে বন্ধ করে দিয়েছি।
আমরা নিজেরা বুঝার চেষ্টা না করে,
অন্যের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করতে শিখেছি।
ফলে আমাদের কুরআনের সাথে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হয়নি।

বন্ধুগণ!
অথচ আল্লাহ কুরআনে আমাদেরকে বারবার চিন্তা করতে বলেছেন।
“তোমরা কি বুঝ না”,
“তোমরা কি চিন্তা করো না”—
এই কথাগুলো আল্লাহ কেন বলেছেন।
তিনি কি আমাদেরকে অক্ষম বানিয়েছেন,
নাকি তিনি আমাদেরকে এমন ক্ষমতা দিয়েছেন,
যা আমরা ব্যবহার করছি না।
আমরা যদি চিন্তা না করি, যদি যাচাই না করি,
তাহলে আমরা কীভাবে সত্যকে চিনবো।

বন্ধুগণ!
আজ আমরা এমন একটি অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছি,
যেখানে আমরা কোনো বিষয় বুঝার আগে দেখি—
আমার মাযহাবে কী বলা আছে। আমরা দেখি—
অমুক আলেম কী বলেছেন।
কিন্তু আমরা খুব কমই জিজ্ঞেস করি—
কুরআন কী বলছে।
এই অভ্যাসটা ধীরে ধীরে আমাদেরকে কুরআন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

বন্ধুগণ!
মাযহাবের ইমামরা আমাদের শত্রু নন।
তারা চেষ্টা করেছেন কুরআন ও সুন্নাহ বুঝে আমাদের জন্য সহজ করতে।
কিন্তু তারা কখনো বলেননি—
আমাদের কথাকেই চূড়ান্ত ধরে নাও।
বরং তারা বলেছেন—
যদি আমাদের কথা কুরআনের বিরুদ্ধে যায়,
তাহলে কুরআনকেই গ্রহণ করো।
কিন্তু আমরা সেই শিক্ষাটা ভুলে গেছি।

বন্ধুগণ!
আজ আমরা এমনভাবে মাযহাবকে ধরেছি,
যেন সেটাই দীন।
আমরা এমনভাবে মানুষের ব্যাখ্যাকে গ্রহণ করেছি,
যেন সেটাই আল্লাহর কথা।
এই জায়গাটাই সবচেয়ে বড় ভুল।
কারণ দীন আল্লাহর, দীন মানুষের না।
ব্যাখ্যা মানুষের হতে পারে,
কিন্তু মূল পথনির্দেশনা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

বন্ধুগণ!
কুরআন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য না।
কুরআন পুরো মানবজাতির জন্য।
আল্লাহ বলেছেন—এটা মানুষের জন্য হেদায়েত।
তাহলে আমরা কেন এটাকে নিজেদের থেকে দূরে রাখবো।
কেন আমরা ভাববো—
এটা শুধু বিশেষ কিছু মানুষের জন্য।

বন্ধুগণ!
আপনি যদি কুরআন পড়তে শুরু করেন,
প্রথমে হয়তো সবকিছু বুঝতে পারবেন না।
কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার ভেতরে একটি পরিবর্তন আসবে।
আপনি বুঝতে পারবেন—
দীন কতটা সহজ, কতটা পরিষ্কার, কতটা সুন্দর।
আপনি দেখবেন—
অনেক জটিলতা আসলে মানুষের তৈরি।

বন্ধুগণ!
আমাদের বড় সমস্যা হলো—আমরা ভয় পাই।
আমরা ভাবি—যদি আমি নিজে বুঝতে যাই,
তাহলে হয়তো ভুল করবো।
কিন্তু ভুল করা শেখার অংশ।
অন্ধভাবে মেনে নেওয়া কখনো সত্যের পথে নিয়ে যায় না।
বরং চিন্তা করা, চেষ্টা করা, বুঝার চেষ্টা করা—
এগুলোই মানুষকে সত্যের কাছাকাছি নিয়ে যায়।

বন্ধুগণ!
আজ আমাদের দরকার একটি পরিবর্তন।
এই পরিবর্তন বাইরে না, ভেতরে।
আমাদের চিন্তার পরিবর্তন দরকার।
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার।
আমাদেরকে আবার কুরআনের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।

বন্ধুগণ!
আমরা আলেমদের সম্মান করবো,
তাদের কাছ থেকে শিখবো,
কিন্তু তাদেরকে চূড়ান্ত মানদণ্ড বানাবো না।
চূড়ান্ত মানদণ্ড হবে কুরআন।
আমরা কোনো কথাকে গ্রহণ করার আগে দেখবো—
এটা কুরআনের সাথে মেলে কি না।

বন্ধুগণ!
যদি আমরা এই নীতি গ্রহণ করি,
তাহলে অনেক বিভ্রান্তি দূর হয়ে যাবে।
অনেক অপ্রয়োজনীয় তর্ক বন্ধ হয়ে যাবে।
আমরা সহজ পথে ফিরে আসতে পারবো।

বন্ধুগণ!
আজ মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত।
কেউ এই পরিচয়ে, কেউ ওই পরিচয়ে।
কিন্তু আমরা ভুলে গেছি—
আমাদের মূল পরিচয় একটাই—আমরা মুসলিম।
এই পরিচয়ের ভেতরেই আমাদের ঐক্য।

বন্ধুগণ!
আমরা যদি সত্যিই ঐক্য চাই,
তাহলে আমাদেরকে এক জায়গায় আসতে হবে।
সেই জায়গাটা হলো কুরআন।
কুরআন আমাদেরকে এক করতে পারে,
কারণ এটা আল্লাহর বাণী।
মানুষের ব্যাখ্যা আমাদেরকে আলাদা করতে পারে,
কিন্তু আল্লাহর বাণী আমাদেরকে একত্রিত করতে পারে।

বন্ধুগণ!
তাই আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আমরা কি আগের মতোই চলবো,
নাকি আমরা নতুন করে শুরু করবো।
আমরা কি অন্যের ওপর নির্ভর করে থাকবো,
নাকি আমরা নিজেরা কুরআনের সাথে সম্পর্ক গড়বো।

বন্ধুগণ!
আপনি আজ থেকেই শুরু করতে পারেন।
প্রতিদিন অল্প করে কুরআন পড়ুন।
অর্থ বুঝার চেষ্টা করুন। চিন্তা করুন। প্রশ্ন করুন।
ধীরে ধীরে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন—
আপনার পথ কোন দিকে যাচ্ছে।

বন্ধুগণ!
মনে রাখবেন—কুরআন কোনো জটিল বই না।
এটা মানুষের জন্য নাজিল হয়েছে,
যাতে মানুষ বুঝতে পারে, যাতে মানুষ হেদায়েত পায়। আমরা যদি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করি,
আল্লাহ অবশ্যই আমাদেরকে বুঝার তাওফিক দিবেন।

বন্ধুগণ!
আমরা যদি সত্যিই পরিবর্তন চাই,
তাহলে আমাদেরকে সাহসী হতে হবে।
আমাদেরকে সত্যের জন্য দাঁড়াতে হবে।
আমাদেরকে নিজেদের ভুল স্বীকার করতে হবে।
এবং আমাদেরকে সঠিক পথে ফিরে আসতে হবে।

বন্ধুগণ!
আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি—
আমরা কুরআনের সাথে সম্পর্ক গড়বো।
আমরা সত্যকে গ্রহণ করবো।
আমরা অন্ধ অনুসরণ থেকে বের হয়ে আসবো।
আমরা সহজ, পরিষ্কার, আলোকিত পথেই চলবো।

বন্ধুগণ!
আল্লাহ আমাদেরকে সেই তাওফিক দিন,
যাতে আমরা তাঁর বাণী বুঝতে পারি,
মেনে চলতে পারি,
এবং সেই আলোয় আমাদের জীবন গড়ে তুলতে পারি। ইনশাআল্লাহ

Post a Comment

0 Comments