এই দেশে কেউ ভালো না — নাকি আয়নায় দাঁড়াতে ভয় পাই?
আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আনযালা ‘আলা ‘আব্দিহিল কিতাব।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী খালাকাল ইনসান,
আল্লামাহুল বায়ান।
সালামুন আলা মুহাম্মাদ আল্লাযি যা’য়া বিল কুরআনি মুহাইমিনা।
ওয়া সালামুন আলাল মুরসালিন।
বন্ধুগণ!
আজ আমরা ভালো খারাপ নিয়ে কথা বলবো,
কোন রাজনীতি নিয়ে কথা বলবো না।
কোন দল ভালো, কোন দল খারাপ— সেই বিতর্কেও যাবনা।
আজ আমরা একটি কঠিন আয়নার সামনে দাঁড়াবো।
আজ প্রশ্ন করবো— দেশ খারাপ?
নাকি আমরা খারাপ?
আসলে খারাপ কে?
বন্ধুগণ!
আমরা খুব সহজে বলি— ও স্বৈরাচার।
ও ফ্যাসিস্ট। ও ভোট চোর।
ও সুদখোর। ও ধর্ম ব্যবসায়ী। ও চাঁদাবাজ।
এই দেশে কেউ ভালো না।
তারপর আমরা বুক ফুলিয়ে বলি—
শুধু আমি ভালো।
কিন্তু কুরআন একটি কঠিন সত্য বলে।
আল্লাহ বলেন—
بَلِ الْإِنسَانُ عَلَىٰ نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ
(সূরা কিয়ামাহ : ১৪)
মানুষ নিজেই নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষী।
বন্ধুগণ!
আজ আমি যদি আয়নার সামনে দাঁড়াই—
আমি কি সত্যিই ভালো?
আমরা নেতা নিয়ে খুব কথা বলি।
কিন্তু নিজের জীবন নিয়ে কি কখনো কথা বলি?
চলুন একটু দেখি। আমরা কে?
আমরা কে?
আমি সিএনজি ড্রাইভার।
মিটার আছে। কিন্তু চালাই না।
১০০ টাকার ভাড়া ২০০ নেই।
২০০ টাকার ভাড়া ৪০০ নেই।
কারণ সুযোগ পেয়েছি।
তারপর বলি — দেশে দুর্নীতি দিয়ে ভড়ে গেছে।
বন্ধুগণ!
আমি বাস ড্রাইভার।
২০ টাকার ভাড়া ৩০ নেই।
৩০ টাকার ভাড়া ৩৫ নেই।
কারণ সবাই নিচ্ছে।
তারপর বলি— দেশটা শেষ।
বন্ধুগণ!
আমি মুদি দোকানদার।
সরকার যদি কোনো পণ্যের দাম
২ টাকা বাড়ায়— আমি বাড়াই ২০ টাকা।
কারণ সুযোগ পেয়েছি।
তারপর বলি— সরকার খারাপ।
আমি পাইকারি ব্যবসায়ী।
আমি সিন্ডিকেট করি।
কৃত্রিম সংকট বানাই।
রমাদান আসলে চিনি লুকাই।
তেল লুকাই। খেজুর লুকাই।
তারপর দাম বাড়াই।
তারপর বলি— দেশে নৈতিকতা বলতে কিছু নেই।
বন্ধুগণ!
আমি ডাক্তার।
রোগীর গ্যাসের সমস্যা।
একটা ওষুধ দিলেই ভালো হবে।
কিন্তু আমি বলি— রক্ত পরীক্ষা।
এক্স-রে। আল্ট্রাসনোগ্রাম।
আরও কত পরীক্ষা।
কারণ রোগী ভীত।
আমি সুযোগ নিয়েছি।
তারপর বলি— দেশের মানুষ অসৎ হয়ে গেছে।
বন্ধুগণ!
আমি সরকারি কর্মকর্তা।
একটা ফাইল সই করতে ৩ মিনিট লাগে।
কিন্তু আমি ফাইল আটকে রাখি।
কারণ মানুষকে কষ্ট দিলে ঘুষ আসে।
তারপর বলি— দেশটা নষ্ট হয়ে গেছে।
বন্ধুগণ!
আমি ভোটার।
নির্বাচনের সময় ৫০০ টাকা পেলেই—
আমি ভোট বিক্রি করি।
আমি জানি লোকটা অসৎ।
আমি জানি লোকটা চাঁদাবাজ।
তবুও আমি ভোট দেই।
কারণ আমি টাকা পেয়েছি।
তারপর বলি— দেশে ভালো নেতা নেই।
বন্ধুগণ!
আমি নির্বাচনের দায়িত্বে।
আমি জানি মানুষ কাকে ভোট দিয়েছে।
কিন্তু টাকা খেয়ে আমি ফলাফল বদলাই।
তারপর বলি— দেশে গণতন্ত্র নেই।
তাহলে আসল সমস্যা কোথায়?
আমরা সবাই বলি— দেশ খারাপ।
কিন্তু কুরআন বলছে—
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ
(সূরা রূম : ৪১)
স্থল ও সমুদ্রে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে
মানুষের হাতের কামাইয়ের কারণে।
বন্ধুগণ!
ফাসাদ আকাশ থেকে নামে না।
ফাসাদ তৈরি হয় মানুষের হাতে।
দুর্নীতি সৃষ্টি করে মানুষ।
অন্যায় সৃষ্টি করে মানুষ।
অনৈতিকতা সৃষ্টি করে মানুষ।
আর সেই মানুষ কে?
আমি। আপনি। আমরা।
আমরা সবাই ভালো হতে চাই
আমরা চাই— সৎ নেতা। ন্যায় বিচার।
স্বচ্ছ সমাজ। সুন্দর দেশ।
কিন্তু কুরআন একটি প্রশ্ন করে।
أَفَلَا تَعْقِلُونَ
তোমরা কি চিন্তা করো না?
বন্ধুগণ!
যদি আমি অসৎ হই—
আমি কি সৎ নেতা তৈরি করতে পারি?
যদি আমি ঘুষ দিই—
আমি কি ঘুষমুক্ত রাষ্ট্র চাইতে পারি?
যদি আমি ভোট বিক্রি করি—
আমি কি সৎ সরকার আশা করতে পারি?
আমি যদি ভালো না হই,
তাহলে ভালো কোথায় পাওয়া যাবে?
আমরা যদি না জাগী মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার ছেলে উঠলে মাগো রাত পোহাবে তবে।
চলুন এবার পরিবর্তনের পথ খুজি,
পরিবর্তনের সূত্র জানি।
পরিবর্তনের সূত্র
কুরআন একটি বড় সূত্র দিয়েছে।
إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ
(সূরা রা’দ : ১১)
আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না
যতক্ষণ না তারা নিজেদের পরিবর্তন করে।
বন্ধুগণ!
আমরা রাষ্ট্র বদলাতে চাই।
সরকার বদলাতে চাই।
ব্যবস্থা বদলাতে চাই।
কিন্তু নিজেকে বদলাই না।
আমরা বলি— দেশ বদলানো দরকার।
কুরআন বলছে— তোমাকে বদলানো দরকার।
আল্লাহ বলেন—
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ
নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় ও উত্তম আচরণের নির্দেশ দেন।(সূরা নাহল : ৯০)
বন্ধুগণ!
ন্যায় শুরু হয় সংসদে নয়।
ন্যায় শুরু হয়— দোকানে।
অফিসে। রাস্তার ভাড়ায়।
হাসপাতালের চেম্বারে।
ভোটকেন্দ্রে। আমার লেনদেনে।
আমার পেশায়। আমার বিবেকে।
আসল বিপ্লব কোথায়?
আমরা বিপ্লব চাই।
কিন্তু কুরআনের বিপ্লব ভেতর থেকে শুরু হয়।
নেতা বদলানো সহজ।
নিজেকে বদলানো কঠিন।
কিন্তু প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হয়
নিজের ভিতর থেকে।
বন্ধুগণ!
আজ যদি আমরা সিদ্ধান্ত নেই—
আমি মিটার চালাবো। আমি ঘুষ নেবো না।
আমি ভেজাল দেবো না।
আমি ভোট বিক্রি করবো না।
আমি অন্যায় করবো না।
তাহলে এই দেশ বদলাতে
৫ বছর লাগবে না। ৫ মাসও লাগবে না।
বন্ধুগণ!
দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা রাজনীতি না।
দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা— মানুষের চরিত্র।
আর সেই চরিত্রের শুরু কোথায়?
আমার ভিতরে। আপনার ভিতরে।
আমাদের ভিতরে।
আমাদেরকে সত্যিকারের মুসলিম হতে হবে,
কিন্তু ফ্যাক মুসলিমে ভরে গেছে দেশ,
ফ্যাক মুসলিম!
বন্ধুগণ!
আমাদের সমাজে একটি অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়।
মসজিদে মানুষ নিজেকে খুব ধার্মিক দেখায়,
কিন্তু বাজারে সেই মানুষ এক নম্বরের।
মসজিদে দাঁড়িয়ে কাঁদে,
কিন্তু দোকানে গিয়ে মিথ্যা বলে।
মাথায় টুপি আছে, কিন্তু লেনদেনে সততা নেই।
দাড়ি আছে, কিন্তু ব্যবসায় ন্যায় নেই।
মুখে আল্লাহর নাম আছে,
কিন্তু অন্তরে মানুষের অধিকার নেই।
কুরআন এই দ্বিচারিতার ব্যাপারে কঠিন সতর্কতা দিয়েছে। আল্লাহ বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা কেন এমন কথা বলো যা তোমরা করো না? (সূরা আস-সাফ : ২)
বন্ধুগণ! আমরা ইসলামের কথা বলি,
কিন্তু ইসলামের নৈতিকতা মানি না।
আমরা ন্যায়ের কথা বলি,
কিন্তু নিজের লেনদেনে ন্যায় করি না।
আমরা সুদের বিরুদ্ধে কথা বলি,
কিন্তু নিজের ব্যবসায় অন্যায় মুনাফা করি।
আমরা সমাজের দুর্নীতি নিয়ে বক্তৃতা দিই,
কিন্তু নিজের ছোট অন্যায়কে গুরুত্ব দিই না।
বন্ধুগণ! রমাদান এলে আমরা কী দেখি?
মসজিদে ভিড় বাড়ে। কুরআন তিলাওয়াত বাড়ে।
ইবাদতের আলোচনা বাড়ে।
কিন্তু একই সময়ে বাজারে কী হয়?
চিনির দাম বাড়ে, তেলের দাম বাড়ে,
খেজুরের দাম বাড়ে, সবকিছুর দাম বাড়ে।
রমাদান তো সংযমের মাস,
কিন্তু আমরা এটাকে বানিয়ে ফেলেছি মুনাফার মাস।
কুরআন এই ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট সতর্কতা দিয়েছে। আল্লাহ বলেন—
وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِينَ الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ وَإِذَا كَالُوهُمْ أَو وَّزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ
(সূরা মুতাফফিফিন : ১–৩)
ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা অন্যের কাছ থেকে নিলে পুরো নেয় আর অন্যকে দিলে কম দেয়।
বন্ধুগণ!
এই আয়াত শুধু ওজন কম দেওয়ার কথা নয়।
এটি অন্যায় ব্যবসার বিরুদ্ধে একটি বড় সতর্কবার্তা।
যখন আমরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করি,
যখন আমরা সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াই,
যখন আমরা মানুষের প্রয়োজনকে ব্যবহার করে
নিজের লাভ বাড়াই—
তখন আমরা সেই একই অন্যায়ের অংশ হয়ে যাই
যার বিরুদ্ধে কুরআন সতর্ক করেছে।
টুপি, জুব্বা, হিজাব কি ইসলাম?
বন্ধুগণ!
আজ আরেকটি বড় ভুল আমরা করেছি।
আমরা ধর্মকে সীমাবদ্ধ করেছি পোশাকে।
টুপি, জুব্বা, হিজাব, দাড়ি—
এসব ইসলামের পরিচয়ের অংশ, এগুলো ভালো।
কিন্তু এগুলোই পুরো ইসলাম নয়।
ইসলাম শুধু বাহ্যিক পরিচয় নয়,
ইসলাম হলো চরিত্র, ন্যায়, সততা এবং দায়িত্ব।
কুরআন বলছে—
لَّيْسَ الْبِرَّ أَن تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ
সৎকর্ম শুধু এটাই নয় যে তোমরা মুখ পূর্ব বা পশ্চিমে ফিরাও। (সূরা বাকারা : ১৭৭)
অর্থাৎ শুধু আচার নয়।
আসল ধার্মিকতা হলো সততা, ন্যায়,
মানুষের অধিকার রক্ষা,
এবং আল্লাহর ভয় অন্তরে ধারণ করা।
বন্ধুগণ
আরেকটি কঠিন প্রশ্ন আমাদের সামনে আসে।
ধর্ম কি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসার উপকরণ হয়ে গেছে?
কেউ ধর্ম ব্যবহার করে ক্ষমতার জন্য,
কেউ ধর্ম ব্যবহার করে অর্থের জন্য,
কেউ ধর্ম ব্যবহার করে মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে।
কুরআন এই ব্যাপারেও সতর্ক করেছে।
আল্লাহ বলেন—
وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا
আমার আয়াতগুলোকে অল্প মূল্যে বিক্রি করো না। (সূরা বাকারা : ৪১)
যখন ধর্মকে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ব্যবহার করা হয়
তখন সেটি আর ঈমান থাকে না,
সেটি হয়ে যায় ব্যবসা।
বন্ধুগণ!
আমরা অনেক সময় ভাবি দেশের সমস্যা শুধু রাজনীতিতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সমস্যা মানুষের চরিত্রে।
একটি সমাজ যেমন মানুষ দিয়ে গঠিত,
রাষ্ট্রও তেমন মানুষ দিয়েই গঠিত।
যদি মানুষ অসৎ হয় তাহলে সরকারও অসৎ হবে। যদি মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তাহলে রাষ্ট্রও দুর্নীতিগ্রস্ত হবে।
কুরআন আবার সেই মূল সূত্রে ফিরিয়ে নেয়।
إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ
আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের পরিবর্তন করে। (সূরা রা’দ : ১১)
বন্ধুগণ! আমরা রাষ্ট্র বদলাতে চাই,
সরকার বদলাতে চাই, ব্যবস্থা বদলাতে চাই।
কিন্তু নিজেকে বদলাই না।
আমরা বলি দেশ বদলানো দরকার,
কুরআন বলছে—নিজেকে বদলানো দরকার।
প্রকৃত বিপ্লব কোথায়?
আমরা বিপ্লব চাই,
কিন্তু কুরআনের বিপ্লব শুরু হয় অন্তর থেকে।
বিপ্লব মানে শুধু ক্ষমতা পরিবর্তন নয়,
বিপ্লব মানে চরিত্র পরিবর্তন।
বিপ্লব মানে মিথ্যা থেকে সত্যে আসা,
ঘুষ থেকে সততায় আসা,
অন্যায় থেকে ন্যায়ে আসা,
লোভ থেকে সংযমে আসা।
বন্ধুগণ! আজ একটি প্রশ্ন রেখে শেষ করি।
দেশ খারাপ—এই কথা বলা খুব সহজ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমি কি ভালো?
আমি কি সততার সাথে ব্যবসা করি?
আমি কি ঘুষ নেই না?
আমি কি অন্যের অধিকার নষ্ট করি না?
আমি কি ভোট বিক্রি করি না?
যদি আমরা সত্যিই পরিবর্তন চাই,
তাহলে পরিবর্তন শুরু করতে হবে নিজের হৃদয় থেকে,
নিজের লেনদেন থেকে, নিজের আচরণ থেকে।
তখনই সমাজ বদলাবে, তখনই রাষ্ট্র বদলাবে,
তখনই এই দেশ সত্যিকারের সুন্দর হবে।
বন্ধুগণ!
কুরআনের শিক্ষা স্পষ্ট—নিজেকে সংশোধন করো,
ন্যায়ের উপর দাঁড়াও, সত্যকে আঁকড়ে ধরো।
এই পথেই মুক্তি, এই পথেই সমাজের পরিবর্তন,
এই পথেই একটি ন্যায়ের রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।
সালামুন আলাইকুম। ধন্যবাদ সবাইকে
0 Comments