হাদিসের চোরাবালিতে ডুবে গেছে মুসলিম জাতি
লিখকঃ মাহাতাব আকন্দ
আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী খালাকাস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আনযালা ‘আলা ‘আব্দিহিল কিতাব।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী খালাকাল ইনসান, আল্লামাহুল বায়ান।
সালামুন আলা মুহাম্মাদ আল্লাযি যা'য়া বিল কুরআনি মুহাইমিনা।
ও সালামুন আলাল মুরসালিন, আল্লাযিনা কানু হুদান ওয়া রহমাতান লিন্নাস।
রব্বী আউযুবিকা মিন হামাযাতিশ্ শায়াতিন।
ওয়া আউযুবিকা রববি আই ইয়াহদুরূন।
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
রব্বিশ রহলি ছদরী।
ওয়া ইয়াস্সিরলী আমরী।
ওয়াহলুল উকদাতাম মিল লিসানী।
ইয়াফকাহু কওলী।
বন্ধুগণ!
আজকের ভিডিওর শিরোনাম হল-
হাদিসের চোরাবালিতে ডুবে গেছে মুসলিম জাতি
একটি কঠিন শিরোনাম তাইনা?।
একটি অস্বস্তিকর বাক্য এটি।
কিন্তু প্রশ্নটি এড়িয়ে গেলে চলবে না।
মুসলিম জাতি কি কুরআনের পথে দৃঢ় ভাবে দাঁড়িয়ে আছে?
নাকি নানা বর্ণনা, ব্যাখ্যা ও মতের স্তরে স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে?
বন্ধুগণ!
আল্লাহ তাআলা কুরআনকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন এভাবে-
اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا
(সূরা যুমার : ২৩)
আল্লাহ নাযিল করেছেন সর্বোত্তম বাণী—এক কিতাব।
এখানে “আহসানাল হাদীস” শব্দটি লক্ষ্য করুন।
সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব।
মানুষের রচিত বক্তব্য নয়।
পরবর্তী ব্যাখ্যা নয়।
মৌখিক বর্ণনার স্রোত নয়।
বন্ধুগণ!
দীন যখন নাযিল হলো,
তার ভিত্তি ছিল ওহী।
তার মানদণ্ড ছিল কিতাব।
তার ফয়সালা ছিল আল্লাহর বাণী।
আল্লাহ বলেন—
فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَ اللَّهِ وَآيَاتِهِ يُؤْمِنُونَ
(সূরা আল-জাসিয়াহ : ৬)
আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহের পর তারা আর কোন বাণীতে ঈমান আনবে?
বন্ধুগণ!
এটি একটি মৌলিক প্রশ্ন।
আল্লাহর আয়াতের পর আর কোন বক্তব্য মানদণ্ড হবে?
কোন বক্তব্য চূড়ান্ত হবে?
কোন উৎস ফয়সালাকারী হবে?
আল্লাহ বলেন—
مَّا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِن شَيْءٍ
(সূরা আল-আনআম : ৩৮)
আমরা কিতাবে কোনো কিছুই বাদ রাখিনি।
বন্ধুগণ!
যদি কিতাবে কোনো কিছু বাদ না থাকে,
তবে দীন পূর্ণ।
তবে দীন সম্পূর্ণ।
তবে দীন নির্ভরযোগ্য।
আল্লাহ বলেন—
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي
(সূরা আল-মায়েদা : ৩)
আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণ করে দিলাম।
এবং আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম।
বন্ধুগণ!
পূর্ণ দীন কি পরে সংযোজনের অপেক্ষায় থাকে?
সম্পূর্ণ দীন কি অন্য উৎসের ওপর নির্ভরশীল হয়?
নাকি পূর্ণ দীন নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ?
বন্ধুগণ!
সমস্যা শুরু হয় তখন,
যখন কুরআনকে কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
যখন কুরআন পাশে থাকে,
কিন্তু ফয়সালা অন্য উৎসে খোঁজা হয়।
যখন আয়াত তিলাওয়াত করা হয়,
কিন্তু বিধান টানা হয় অন্য বর্ণনা থেকে।
আল্লাহ বলেন—
اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ
(সূরা আল-আ‘রাফ : ৩)
তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল হয়েছে তা অনুসরণ করো।
এবং তাঁর বাইরে অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না।
বন্ধুগণ!
এখানে অনুসরণের নির্দেশ স্পষ্ট।
যা নাযিল হয়েছে তা অনুসরণ।
যা নাযিল হয়নি তা নয়।
নবীর দায়িত্ব কী ছিল?
مَّا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ
(সূরা নূর : ৫৪)
রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।
বন্ধুগণ!
নবীর কাজ ছিল ওহী পৌঁছে দেওয়া।
ওহীর বাইরে নতুন দীন নির্মাণ করা নয়।
ওহীর বাইরে বিকল্প বিধান দাঁড় করানো নয়।
আল্লাহ বলেন—
وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ
(সূরা আল-মায়েদা : ৪৮)
আমরা আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি সত্যসহ।
পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যকে সমর্থনকারী।
এবং তার উপর প্রভাবশালী।
বন্ধুগণ!
এই কিতাব “মুহাইমিন”।
তত্ত্বাবধায়ক।
চূড়ান্ত মানদণ্ড।
অন্য সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রক।
যখন কুরআনের ওপরে অন্য উৎস বসে যায়,
তখন ভারসাম্য নষ্ট হয়।
যখন কুরআনকে যাচাইয়ের মানদণ্ড না বানিয়ে,
বরং কুরআনকে অন্য কিছুর আলোকে ব্যাখ্যা করা হয়,
তখন বিভ্রান্তি শুরু হয়।
বন্ধুগণ!
আল্লাহ বলেন—
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا
(সূরা আলে ইমরান : ১০৩)
তোমরা সবাই আল্লাহর রশি আঁকড়ে ধরো।
এবং বিভক্ত হয়ো না।
আল্লাহর রশি কী? ওহী। কুরআন।
যখন মানুষ বিভিন্ন বর্ণনা,
বিভিন্ন মত,
বিভিন্ন ব্যাখ্যাকে সমান্তরাল উৎস বানায়,
তখন বিভক্তি বাড়ে।
দল সৃষ্টি হয়।
মতপার্থক্য কঠিন হয়।
বন্ধুগণ!
এখানে বিষয়টি ব্যক্তিগত আক্রমণের নয়।
এখানে বিষয়টি মানদণ্ডের।
কোনটি চূড়ান্ত? কোনটি যাচাইয়ের ভিত্তি?
আল্লাহ বলেন—
تِلْكَ آيَاتُ اللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَ اللَّهِ وَآيَاتِهِ يُؤْمِنُونَ
(সূরা আল-জাসিয়াহ : ৬)
এগুলো আল্লাহর আয়াত।
আমরা তা সত্যসহ তিলাওয়াত করছি।
এরপর তারা আর কোন বাণীতে ঈমান আনবে?
বন্ধুগণ!
এই আয়াত একটি সতর্কবার্তা।
আল্লাহর আয়াতের পর আর কোন বাণী চূড়ান্ত হতে পারে না।
দীনকে বুঝতে হলে কুরআনকে কেন্দ্রে আনতে হবে।
কুরআনকে মানদণ্ড করতে হবে।
কুরআনকে যাচাইয়ের মাপকাঠি বানাতে হবে।
যে বর্ণনা কুরআনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ,
তা কুরআনের আলোয় গ্রহণযোগ্য।
যে বর্ণনা কুরআনের বিরোধী,
তা কুরআনের মানদণ্ডে টিকে না।
বন্ধুগণ!
চোরাবালি কেমন? উপরে দৃঢ় মনে হয়।
পা রাখলে মানুষ ডুবে যায়।
বের হতে চাইলে আরও নিচে নামে।
দীনের ক্ষেত্রেও তাই।
যখন কুরআনের দৃঢ় জমি ছেড়ে,
অনিশ্চিত ভিত্তিতে দাঁড়ানো হয়,
তখন মানুষ ডুবে যায় বিভ্রান্তিতে।
আল্লাহ বলেন—
أَفَمَن يَمْشِي مُكِبًّا عَلَىٰ وَجْهِهِ أَهْدَىٰ أَمَّن يَمْشِي سَوِيًّا عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
(সূরা আল-মুলক : ২২)
যে মুখ থুবড়ে হাঁটে সে কি সঠিক পথপ্রাপ্ত?
নাকি যে সোজা পথে দৃঢ়ভাবে হাঁটে?
বন্ধুগণ!
সোজা পথ কুরআনের।
দৃঢ় জমি কুরআনের।
মানদণ্ড কুরআনের।
জাতি তখনই স্থির হয়,
যখন তার ভিত্তি স্থির হয়।
জাতি তখনই ঐক্যবদ্ধ হয়,
যখন তার মানদণ্ড এক হয়।
কুরআন সেই এক মানদণ্ড।
কুরআন সেই দৃঢ় ভিত্তি।
কুরআন সেই আলোর পথ।
যখন কুরআনকে কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হবে,
তখন বিভ্রান্তি কমবে।
তখন বিভক্তি কমবে।
তখন দীন পরিষ্কার হবে।
বন্ধুগণ!
ডুব থেকে বের হওয়ার পথ একটাই।
দৃঢ় জমিতে ফিরে আসা।
আল্লাহর কিতাবে ফিরে আসা।
ওহীর আলোয় দাঁড়ানো।
এটাই নিরাপদ।
এটাই সুস্পষ্ট।
এটাই মুক্তির পথ।
0 Comments