Subscribe Us

নারীদের সাজগোজ ও ছবি তোলা কি হারাম?

 নারীদের সাজগোজ ও ছবি তোলা কি হারাম?

رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ،
وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ،
وَسَلَامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى

বন্ধুগণ!
এই লেখা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র নয়। এই লেখা কোনো মানুষকে ছোট করার চেষ্টা নয়। এই লেখা আসলে আমাদের নিজেদের সামনে একটি আয়না। কারণ আমরা সবাই—আমি, আপনি, আমরা—একই সমাজের সন্তান। আমাদের চিন্তার ভেতরে যা জমে আছে, সেটাই আমাদের আচরণে প্রকাশ পায়। আর সেই চিন্তার ভেতরেই বহুদিন ধরে জমে আছে একধরনের জাহেলিয়াত— অজ্ঞতা, না-বোঝা, না-ভেবে বিশ্বাস করা।

বন্ধুগণ!
আমাদের সমাজে একটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। পুরুষের কাজকে আমরা প্রায়ই “স্বাভাবিক” বলে এড়িয়ে যাই। কিন্তু নারী যখন কিছু করে—বিশেষ করে নিজের উপস্থিতি, নিজের সৌন্দর্য, নিজের ছবি, নিজের প্রকাশ—তখন আলোচনার তীব্রতা বেড়ে যায়। যেন নারী মানেই প্রশ্ন, আর পুরুষ মানেই ছাড়।

বন্ধুগণ!
এই পার্থক্য কি আল্লাহ তৈরি করেছেন? নাকি এটা আমাদের সমাজে গড়ে ওঠা জাহেলিয়্যাতের ফল? কোরআন তো শুরুতেই বলে দেয়—
“হে মানুষ! তোমাদের সবাইকে এক নফস থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে”
(خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ – ৪:১)
এক নফস, এক উৎস, এক মানবিক মর্যাদা। এখানে নারী–পুরুষের কোনো শ্রেণিবিভাগ নেই। আছে কেবল মানুষ।

বন্ধুগণ!
কোরআনের আরেক জায়গায় আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে, যে সবচেয়ে সচেতন”
(إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ – ৪৯:১৩)
লিঙ্গ দিয়ে মর্যাদা নির্ধারিত হয়নি। সাজগোজ দিয়ে ঈমান মাপা হয়নি। ছবি দিয়ে তাকওয়া বিচার করা হয়নি।

তবু বাস্তবতায় কী দেখি?
একজন নারী একটু সাজলে, একটু হাসলে, একটু ছবি তুললে—সাথে সাথে বলা হয়: এটা ঠিক না, ওটা ঠিক না, এটা হারাম, ওটা হারাম। অথচ খুব কম মানুষই থেমে প্রশ্ন করে—এই হারামটা কে ঘোষণা করল? কোরআন? নাকি সমাজ?

বন্ধুগণ!
এই জায়গাটাতেই জাহেলিয়্যাত সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ আল্লাহ নিজেই প্রশ্ন করেন—
“বলুন, কে হারাম করেছে আল্লাহর সেই সৌন্দর্য, যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন?”
(قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ – ৭:৩২)
এটা কোনো সাধারণ বক্তব্য নয়।
এটা সরাসরি প্রশ্ন।
এখানে আল্লাহ অনুমান করছেন—কেউ না কেউ সৌন্দর্যকে হারাম বানাচ্ছে।
আর আল্লাহ সেই কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

বন্ধুগণ!
এই আয়াতে “যীনাত” শব্দটি এসেছে। যীনাত মানে কেবল অলংকার নয়—পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য, শোভা, পরিপাটি থাকা—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই।
আল্লাহ এরপর বলেন—
“এগুলো দুনিয়ার জীবনে বিশ্বাসীদের জন্য”
(هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا)
অর্থাৎ সৌন্দর্য ঈমানের শত্রু নয়। বরং ঈমানের জীবনেই এর স্থান।

বন্ধুগণ!
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার।
কোরআন কখনোই অশ্লীলতা, অহংকার, সীমালঙ্ঘনকে সমর্থন করে না।
কিন্তু সৌন্দর্য আর অশ্লীলতা এক জিনিস নয়। এই দুটিকে এক করে ফেলা—এটাই জাহেলিয়্যাত।

পোশাকের বিষয়ে কোরআন কী বলে?
আল্লাহ বলেন—
“হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাজিল করেছি,
যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকে এবং শোভা বৃদ্ধি করে”
(لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا – ৭:২৬)
খেয়াল করুন—দুটি উদ্দেশ্য একসাথে এসেছে।
এক: শালীনতা
দুই: শোভা
শোভা বাদ দিয়ে শুধু ঢাকা—এটা কোরআনের বক্তব্য নয়।

বন্ধুগণ!
এরপর আল্লাহ আরও বলেন—
“হে বনী আদম! তোমরা প্রতি মাসজিদে তোমাদের শোভা গ্রহণ করো”
(خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ – ৭:৩১)
এখানে আল্লাহ কাউকে বলছেন না—নিজেকে অবহেলা করো। বরং বলছেন—পরিপাটি হও, সচেতন হও, সৌন্দর্য গ্রহণ করো। আর এই নির্দেশ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য।

বন্ধুগণ!
তাহলে প্রশ্ন আসে—যদি সৌন্দর্য গ্রহণই সমস্যা হয়,
তাহলে আল্লাহ কেন এই নির্দেশ দিলেন?
আসলে সমস্যা সৌন্দর্যে নয়।
সমস্যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।

এবার আসি সেই আয়াতে—
যেটা সবচেয়ে বেশি ভুলভাবে বোঝা হয়—
“তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে,
যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া”
(إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا – ২৪:৩১)
এখানে
যা সাধারণত প্রকাশ পায়”—এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বাক্য।
কারণ আল্লাহ জানেন—মানুষ সমাজে বাস করে।
মুখ, হাত, স্বাভাবিক উপস্থিতি—
এগুলো লুকিয়ে রাখা বাস্তবসম্মত নয়।

বন্ধুগণ!
কোরআন কখনোই মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে বলেনি।
বরং আল্লাহ বলেন—
“তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে চলাচলের উপযোগী করেছেন”
(فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا)
নারীও এই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। নারী কোনো ব্যতিক্রম নয়।
৩৩:৫৯ আয়াতে আল্লাহ বলেন—
“এতে তাদের চেনা যাবে এবং কষ্ট পাবে না”
(ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَنْ يُعْرَفْنَ)
পরিচয়ের কথা এসেছে। চেনার কথা এসেছে।
অর্থাৎ পোশাকের উদ্দেশ্য লুকিয়ে ফেলা নয়—
বরং শালীন পরিচয় নিশ্চিত করা।

বন্ধুগণ!
যদি মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখা হয়, তাহলে পরিচয় কষ্টকর হয়। সামাজিক লেনদেন, নিরাপত্তা, পারস্পরিক যোগাযোগ—সবকিছুই বাধাগ্রস্ত হয়।
কোরআন বাস্তবতা অস্বীকার করে না।
কিন্তু জাহলদের সমস্যা এখানেই—সে বাস্তবতা বোঝে না।
সে একপেশে ব্যাখ্যা তৈরি করে।
সে নারীকে সমস্যার উৎস ভাবে, অথচ কোরআন বলে—
“কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না”
(لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ – ৬:১৬৪)
কারো দৃষ্টি যদি অসচেতন হয়,
তার দায় অন্যের ওপর চাপানো যায় না।

বন্ধুগণ!
কোরআন বারবার অন্তরের দিকে আঙুল তোলে—
“চোখ অন্ধ নয়, অন্ধ হচ্ছে অন্তর”
(فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ – ২২:৪৬)
এই আয়াত আমাদের শিখিয়ে দেয়—
নৈতিকতা শুরু হয় ভেতর থেকে, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ দিয়ে নয়।
নারীকে ঘিরে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আসলে নারীর জন্য নয়—পুরুষের ভেতরের দুর্বলতা ঢাকার একটি চেষ্টা।
এটা কোরআনের শিক্ষা নয়। এটা মুর্খতার ফল।

বন্ধুগণ!
আমার উদ্দেশ্য কাউকে আঘাত করা নয়। উদ্দেশ্য হলো—কোরআনের আলোতে ভাবার সাহস তৈরি করা। কারণ আল্লাহ নিজেই বলেন—
“তোমরা কি কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করো না?”
(أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ)
আমরা একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়েছি—
কোরআন কী বলে, আর আমরা কী বুঝে নিয়েছি?
আজ সেই প্রশ্নকে আরও গভীরে নেওয়ার সময়।

কারণ জাহেলিয়াত সবসময় চিৎকার করে আসে না।
অনেক সময় জাহেলিয়াত আসে খুব শান্তভাবে,
খুব ধর্মীয় ভাষায়,
খুব “ভালোর” নামে।

বন্ধুগণ!
জাহেলিয়াত মানে শুধুই মুর্খতা নয়।
জাহেলিয়াত মানে—
জানার চেষ্টা না করা,
শোনার আগ্রহ না রাখা,
নিজের অভ্যাসকেই সত্য ভেবে নেওয়া।
আর এই জাহেলিয়াত যখন ধর্মের ভাষা ধার করে,
তখন সেটা সবচেয়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

বন্ধুগণ!
কোরআন এই জাহলের বিরুদ্ধে বারবার সতর্ক করেছে।
আল্লাহ বলেন—
“তারা বলে—আমরা আমাদের বাপদাদাদেরকে যেভাবে পেয়েছি, আমরা সেভাবেই চলি”
(إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا – ২:১৭০)
এই আয়াতে কোনো লিঙ্গ নেই।
কিন্তু বাস্তবে এই অন্ধ অনুসরণ সবচেয়ে বেশি গিয়ে পড়ে নারীর ওপর।

বন্ধুগণ!
একটি সমাজ যখন নিজেকে সংশোধন করতে চায় না,
তখন সে সবচেয়ে সহজ পথ বেছে নেয়—
দায় চাপিয়ে দেয় দুর্বলদের ওপর।
আর আমাদের সমাজে ঐতিহাসিকভাবে সেই “দুর্বল” বানানো হয়েছে নারীকে।
কোরআন কিন্তু নারীকে দুর্বল বলেনি।
বরং কোরআন নারী–পুরুষ উভয়কে সমান দায়িত্বশীল বানিয়েছে।

আল্লাহ বলেন—
“মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী—তারা একে অপরের সহায়ক”
(الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ – ৯:৭১)
এই আয়াতে “আওলিয়া” শব্দ এসেছে।
অর্থ—রক্ষক, সহচর, সহযোগী।
এখানে কোনো শ্রেণিবিন্যাস নেই।

বন্ধুগণ!
তবুও আমরা কী করেছি?
আমরা দায়িত্ব ভাগ না করে, নিয়ন্ত্রণ ভাগ করেছি।
নৈতিকতার ভার চাপিয়েছি একপাশে।
একজন পুরুষ যদি নিজের দৃষ্টি সংযত না রাখে—
তার সমাধান কী হওয়া উচিত?
কোরআন বলে—
“মুমিন পুরুষদের বলো—তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে”
(قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ – ২৪:৩০)
খেয়াল করুন—
এই আয়াত নারীর আগে এসেছে।
কোরআন শুরু করেছে পুরুষের দায়িত্ব দিয়ে।

বন্ধুগণ!
এরপরই এসেছে নারীর প্রসঙ্গ—
“মুমিন নারীদের বলো—তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে”
(وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ – ২৪:৩১)
দুই পক্ষের দায়িত্ব সমান।
কিন্তু আমাদের সমাজ দায়িত্বের এই ভারসাম্য মানতে চায় না।
জাহেলিয়াতের একটি বড় লক্ষণ হলো—
নিজের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে অন্যের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া।
এই জাহল থেকেই আসে অতিরঞ্জন।
এই জাহল থেকেই আসে—
“নারী মানেই ফিতনা” জাতীয় ধারণা।

বন্ধুগণ!
কোরআন কোথাও নারীকে ফিতনা বলে পরিচয় দেয়নি।
বরং কোরআন বলে—
“তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানরা পরীক্ষা”
(إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ – ৬৪:১৫)
এখানে নারী নেই।
কিন্তু সমাজ নিজের মতো করে তালিকা বানিয়ে নিয়েছে।

বন্ধুগণ!
আর এই বানানো তালিকার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী—
নারীর স্বাভাবিক জীবন।
হাসা, কথা বলা, সাজা, ছবি তোলা—
এই সবকিছুকে একসাথে “সমস্যা” বানানো হয়েছে।
অথচ কোরআন বলে—
“আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, কঠিনতা নয়”
(يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ – ২:১৮৫)

বন্ধুগণ!
যে ব্যাখ্যা জীবনকে অচল করে দেয়,
যে ব্যাখ্যা মানুষকে সমাজ থেকে আলাদা করে দেয়,
সে ব্যাখ্যা কোরআনের উদ্দেশ্যের সাথে যায় না।
এখানেই আবার ৩৩:৫৯ আয়াতের দিকে তাকাতে হয়।
আল্লাহ বলেন—
“এতে তারা চেনা যাবে এবং কষ্ট পাবে না”
(أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ)
চেনা যাবে—এটাই লক্ষ্য।
অচেনা হয়ে যাওয়া নয়।
অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নয়।

বন্ধুগণ!
পরিচয় মানে দায়িত্বও আছে।
পরিচয় মানে সমাজে সক্রিয় থাকা।
নারীকে যদি শুধু আড়ালেই রাখা হয়,
তাহলে তার পরিচয় কোথায়?
কোরআন নারীকে প্রশ্ন করার অধিকার দিয়েছে।
মরিয়ম (আ.) প্রশ্ন করেছেন।
মূসার (আ.) কাহিনীতে নারীরা মত দিয়েছেন।
শুয়াইব (আ.)-এর মেয়েরা কাজ করেছেন।
এই কাহিনিগুলো কোরআন নিজেই বর্ণনা করেছে।
কোনো লজ্জা বা গোপনীয়তার আড়াল ছাড়াই।

বন্ধুগণ!
জাহল এখানে আবার মাথা তোলে—
এই ঘটনাগুলো মানতে চায় না।
শুধু নিষেধের তালিকা বড় করতে চায়।
অথচ কোরআন নিষেধের বই নয়।
কোরআন দিকনির্দেশনার বই।
আল্লাহ বলেন—
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করেছি”
(الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ – ৫:৩)
পরিপূর্ণ মানে— ভারসাম্যপূর্ণ। মানবিক। বাস্তবসম্মত।

বন্ধুগণ!
যখন আমরা এই পরিপূর্ণতার মধ্যে নিজেরা নতুন নিষেধ যোগ করি,
তখন আমরা অজান্তেই আল্লাহর কাজ নিজেরা করতে বসি।
এই জায়গাতেই জাহল সবচেয়ে সূক্ষ্ম।
আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন—
“তোমাদের জিহ্বা দিয়ে মিথ্যা বলে বলো না—এটা হালাল, এটা হারাম”
(وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ – ১৬:১১৬)
এই আয়াত কেবল ফিকহের জন্য নয়।
এই আয়াত সামাজিক আচরণের জন্যও।

বন্ধুগণ!
নারীর ছবি তোলা—
এটা যদি নৈতিক সীমা লঙ্ঘন না করে,
অশ্লীলতা না ছড়ায়,
অহংকার না বাড়ায়—
তাহলে এটাকে হারাম বলার অধিকার কার?
কোরআন তো বলে—
“আল্লাহ কোনো আত্মাকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না”
(لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا – ২:২৮৬)
এই সমাজের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে—
কোরআনের শিক্ষা থেকে নয়,
জাহলের ব্যাখ্যা থেকে।
আর এই জাহল ভাঙে একমাত্র জ্ঞান দিয়ে।
নরম ভাষায়। বিনয়ের সাথে।

Post a Comment

0 Comments