তাকওয়া কোনো এক মাসের সাধনা নয়, তাকওয়া হলো সারাজীবনের সচেতন পথচলা
লিখঃ মাহাতাব আকন্দ
বন্ধুগণ, আমরা যদি তাকওয়াকে শুধু একটি মাসের ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলি, তাহলে আমরা কুরআনের গভীর আহ্বানকে অজান্তেই সংকুচিত করে ফেলি। কারণ কুরআন কখনোই তাকওয়াকে মৌসুমি কোনো অভ্যাস হিসেবে তুলে ধরেনি। বরং কুরআন তাকওয়াকে মানুষের সারাজীবনের জন্য একটি সচেতন, দায়িত্বশীল এবং ধারাবাহিক পথচলা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
আল্লাহ তাআলা যখন বলেন—
﴿ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ﴾
“এটি ঐ নির্দিষ্ট কিতাব—এতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকিদের জন্য পথনির্দেশ” (২:২),
আল্লাহ আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন,
তাকওয়া কোনো সাময়িক আবেগ নয়,
বরং এমন একটি অবস্থান,
যেখানে মানুষ একমাত্র কুরআনের নির্দেশনাকে জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে, প্রতিটি কাজে এবং প্রতিটি মোড়ে পথনির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করে।
তাকওয়া মানে শুধু নির্দিষ্ট সময়ের ইবাদতে সীমাবদ্ধ থাকা নয়,
বরং পুরো জীবনকে আল্লাহর নির্দেশের আলোকে পরিচালিত করা।
বন্ধুগণ,
এই সচেতন পথচলার প্রথম এবং সবচেয়ে মৌলিক স্তম্ভ হলো সালাত।
কারণ সালাত কেবল কিছু শারীরিক নড়াচড়া বা মুখে উচ্চারিত কয়েকটি বাক্য নয়।
সালাত মূলত মানুষ ও সময়ের সম্পর্ককে শুদ্ধ করে। সালাত মানুষকে শেখায় কীভাবে নিজের জীবনের অগ্রাধিকারের তালিকায় আল্লাহকে প্রথম স্থানে রাখতে হয়।
কুরআনে আল্লাহ বলেন—
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ
“তোমরা সালাত কায়েম করো” (২:৪৩)।
এখানে ‘কায়েম’ শব্দটি আমাদের থামিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। কারণ কায়েম মানে শুধু সালাত আদায় করা নয়, বরং সালাতকে দাঁড় করানো, প্রতিষ্ঠা করা, জীবনের কাঠামোর ভেতরে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা। সালাত মানুষকে শেখায় কীভাবে দিনের কাজের মাঝখানে থেমে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সময়ের দাস হয়ে যেতে হয় না।
বন্ধুগণ,
সালাতের মাধ্যমে তাকওয়া গড়ে ওঠে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে। যে মানুষ দিনে পাঁচবার আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয়, সে ধীরে ধীরে শিখে ফেলে দায়িত্ববোধ, সময়ানুবর্তিতা, উপস্থিতির গুরুত্ব এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ।
কুরআন এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট করে বলে—
إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ
“নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে” (২৯:৪৫)।
অর্থাৎ সালাত কেবল মসজিদের ভেতরে সীমাবদ্ধ কোনো ইবাদত নয়। এটি মানুষের চরিত্র, আচরণ এবং সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। সালাত যদি সত্যিকার অর্থে কায়েম হয়, তবে তা মানুষের জীবনকে অন্যায় থেকে দূরে রাখে।
বন্ধুগণ,
তাকওয়ার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো সিয়াম বা রোজা। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন—
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ … لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ﴾
“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর আত্মসংযমের বিধান লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে, যেন তোমরা সচেতন থাকা শিখতে পারো” (২:১৮৩)।
এখানে ‘যেন’ শব্দটি আমাদের জানিয়ে দেয়, সিয়াম নিজেই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়।
বরং সিয়াম হলো তাকওয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
বন্ধুগণ,
সিয়াম মানুষকে শেখায় কীভাবে বৈধ চাহিদাকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।
ক্ষুধা, তৃষ্ণা, কামনা—এসবের ওপর সংযম অর্জনের এই প্রশিক্ষণ মানুষকে বুঝিয়ে দেয় যে, সে নিজের ইচ্ছার দাস নয়,
বরং সচেতন ও নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর নিকট সমর্পণ করা একজন মানুষ।
আর সর্বসময় সচেতন থাকার নামই হলো তাকওয়া।
কুরআন যখন সিয়ামের কথা বলে,
তখন শুধু উপবাসের আলোচনা করে না,
বরং তাকওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে কথা বলে।
কারণ যে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজেকে থামাতে পারে,
সে মানুষ ধীরে ধীরে হারাম থেকেও নিজেকে থামাতে শেখে,
অন্যায় থেকেও দূরে থাকতে শেখে।
এই কারণেই সিয়াম তাকওয়ার একটি গভীর অনুশীলন—তবে এটি একমাত্র অনুশীলন নয়।
বন্ধুগণ,
তাকওয়ার তৃতীয় স্তম্ভ হলো দান।
দান মানুষের ভেতরের অহংকার, আমার আমার চেতনা ও মালিকানার অহংকার ভেঙে দেয়। কুরআন মুত্তাকিদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলে—
﴿وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ﴾
“আমি তাদের যা দিয়েছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে” (২:৩)।
এখানে ‘আমি দিয়েছি’—এই স্মরণ মানুষকে বিনয়ী করে তোলে।
তখন দান আর উপকার করার অহংকার থাকে না,
বরং দায়িত্ব পালনের অনুভূতি তৈরি হয়।
কুরআন আরও বলেন—
﴿لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ﴾
“তোমরা কখনো প্রকৃত সৎকর্মে পৌঁছাতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তা থেকে ব্যয় করো যা তোমরা ভালোবাসো” (৩:৯২)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়,
তাকওয়া আরামদায়ক কোনো পথ নয়।
তাকওয়া ত্যাগের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে।
বন্ধুগণ,
দানের মাধ্যমে তাকওয়া সামাজিক রূপ লাভ করে।
মানুষ যখন অন্যের প্রয়োজন অনুভব করতে শেখে,
তখন সমাজে লোভ, অবিচার ও বৈষম্য কমে আসে।
দান মানুষকে শুধু দাতা বানায়না,
বরং কৃতজ্ঞ বানায়, দয়াশীল বানায়,
দায়িত্বশীল মানুষে পরিণত করে—আর এগুলোই তাকওয়ার স্বাভাবিক ফল।
সালাত মানুষকে সময় ও শৃঙ্খলা শেখায়,
সিয়াম শেখায় আত্মসংযম,
আর দান শেখায় আত্ন অহংকার ভাঙতে।
এই তিনটি মিলেই তাকওয়ার ভিত্তি নির্মাণ করে।
এগুলো আলাদা আলাদা ইবাদত নয়,
বরং একে অন্যকে শক্তিশালী করে।
বন্ধুগণ,
মানুষ যখন তাকওয়ার পথে চলে,
এর মানে সে সালাত, সিয়াম ও দান করায় অভ্যস্ত হয়।
আবার এর মাধ্যমে মানুষের ভেতরে,
শৃঙ্খলা, সংযম ও আত্মত্যাগের বীজ বপন করে,
তখন সেই বীজ থেকে ধীরে ধীরে যে গাছটি বড় হয়ে ওঠে,
তার প্রথম যে ফলটি চোখে পড়ে, তা হলো সত্যবাদিতা। কারণ যে মানুষ আল্লাহকে সামনে রেখে কথা বলতে শেখে,
সে মানুষ আর নিজের সুবিধার জন্য সত্য গোপন করতে পারে না,
সত্য বিকৃত করতে পারে না। সে মিথ্যা বলতে পারেনা।
এই সত্যবাদিতার কথা কুরআন খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। আল্লাহ বলেন—
“তোমরা সালাত কায়েম করো” (২:৪৩)।
এখানে ‘কায়েম’ শব্দটি আমাদের থামিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। কারণ কায়েম মানে শুধু সালাত আদায় করা নয়, বরং সালাতকে দাঁড় করানো, প্রতিষ্ঠা করা, জীবনের কাঠামোর ভেতরে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা। সালাত মানুষকে শেখায় কীভাবে দিনের কাজের মাঝখানে থেমে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সময়ের দাস হয়ে যেতে হয় না।
বন্ধুগণ,
সালাতের মাধ্যমে তাকওয়া গড়ে ওঠে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে। যে মানুষ দিনে পাঁচবার আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয়, সে ধীরে ধীরে শিখে ফেলে দায়িত্ববোধ, সময়ানুবর্তিতা, উপস্থিতির গুরুত্ব এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ।
কুরআন এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট করে বলে—
إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ
“নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে” (২৯:৪৫)।
অর্থাৎ সালাত কেবল মসজিদের ভেতরে সীমাবদ্ধ কোনো ইবাদত নয়। এটি মানুষের চরিত্র, আচরণ এবং সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। সালাত যদি সত্যিকার অর্থে কায়েম হয়, তবে তা মানুষের জীবনকে অন্যায় থেকে দূরে রাখে।
বন্ধুগণ,
তাকওয়ার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো সিয়াম বা রোজা। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন—
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ … لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ﴾
“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর আত্মসংযমের বিধান লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে, যেন তোমরা সচেতন থাকা শিখতে পারো” (২:১৮৩)।
এখানে ‘যেন’ শব্দটি আমাদের জানিয়ে দেয়, সিয়াম নিজেই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়।
বরং সিয়াম হলো তাকওয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
বন্ধুগণ,
সিয়াম মানুষকে শেখায় কীভাবে বৈধ চাহিদাকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।
ক্ষুধা, তৃষ্ণা, কামনা—এসবের ওপর সংযম অর্জনের এই প্রশিক্ষণ মানুষকে বুঝিয়ে দেয় যে, সে নিজের ইচ্ছার দাস নয়,
বরং সচেতন ও নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর নিকট সমর্পণ করা একজন মানুষ।
আর সর্বসময় সচেতন থাকার নামই হলো তাকওয়া।
কুরআন যখন সিয়ামের কথা বলে,
তখন শুধু উপবাসের আলোচনা করে না,
বরং তাকওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে কথা বলে।
কারণ যে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজেকে থামাতে পারে,
সে মানুষ ধীরে ধীরে হারাম থেকেও নিজেকে থামাতে শেখে,
অন্যায় থেকেও দূরে থাকতে শেখে।
এই কারণেই সিয়াম তাকওয়ার একটি গভীর অনুশীলন—তবে এটি একমাত্র অনুশীলন নয়।
বন্ধুগণ,
তাকওয়ার তৃতীয় স্তম্ভ হলো দান।
দান মানুষের ভেতরের অহংকার, আমার আমার চেতনা ও মালিকানার অহংকার ভেঙে দেয়। কুরআন মুত্তাকিদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলে—
﴿وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ﴾
“আমি তাদের যা দিয়েছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে” (২:৩)।
এখানে ‘আমি দিয়েছি’—এই স্মরণ মানুষকে বিনয়ী করে তোলে।
তখন দান আর উপকার করার অহংকার থাকে না,
বরং দায়িত্ব পালনের অনুভূতি তৈরি হয়।
কুরআন আরও বলেন—
﴿لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ﴾
“তোমরা কখনো প্রকৃত সৎকর্মে পৌঁছাতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তা থেকে ব্যয় করো যা তোমরা ভালোবাসো” (৩:৯২)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়,
তাকওয়া আরামদায়ক কোনো পথ নয়।
তাকওয়া ত্যাগের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে।
বন্ধুগণ,
দানের মাধ্যমে তাকওয়া সামাজিক রূপ লাভ করে।
মানুষ যখন অন্যের প্রয়োজন অনুভব করতে শেখে,
তখন সমাজে লোভ, অবিচার ও বৈষম্য কমে আসে।
দান মানুষকে শুধু দাতা বানায়না,
বরং কৃতজ্ঞ বানায়, দয়াশীল বানায়,
দায়িত্বশীল মানুষে পরিণত করে—আর এগুলোই তাকওয়ার স্বাভাবিক ফল।
সালাত মানুষকে সময় ও শৃঙ্খলা শেখায়,
সিয়াম শেখায় আত্মসংযম,
আর দান শেখায় আত্ন অহংকার ভাঙতে।
এই তিনটি মিলেই তাকওয়ার ভিত্তি নির্মাণ করে।
এগুলো আলাদা আলাদা ইবাদত নয়,
বরং একে অন্যকে শক্তিশালী করে।
বন্ধুগণ,
মানুষ যখন তাকওয়ার পথে চলে,
এর মানে সে সালাত, সিয়াম ও দান করায় অভ্যস্ত হয়।
আবার এর মাধ্যমে মানুষের ভেতরে,
শৃঙ্খলা, সংযম ও আত্মত্যাগের বীজ বপন করে,
তখন সেই বীজ থেকে ধীরে ধীরে যে গাছটি বড় হয়ে ওঠে,
তার প্রথম যে ফলটি চোখে পড়ে, তা হলো সত্যবাদিতা। কারণ যে মানুষ আল্লাহকে সামনে রেখে কথা বলতে শেখে,
সে মানুষ আর নিজের সুবিধার জন্য সত্য গোপন করতে পারে না,
সত্য বিকৃত করতে পারে না। সে মিথ্যা বলতে পারেনা।
এই সত্যবাদিতার কথা কুরআন খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। আল্লাহ বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর প্রতি সচেতন হও এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো” (৯:১১৯)।
এই আয়াতে আল্লাহ আমাদের জানিয়ে দেন,
সত্যবাদিতা তাকওয়ার আলাদা কোনো গুণ নয়;
বরং এটি তাকওয়ার সরাসরি ফল।
কারণ তাকওয়া না থাকলে সত্য টিকে না,
আর সত্য ছাড়া তাকওয়া পূর্ণতা পায় না।
বন্ধুগণ,
সত্যবাদিতা মানে শুধু মিথ্যা কথা না বলা নয়। সত্যবাদিতা মানে নিজের অবস্থান পরিষ্কার রাখা,
নিজের ভুল হলে তা স্বীকার করার সাহস রাখা,
আর চাপের মুখেও সত্যের পক্ষেই দাঁড়িয়ে থাকা।
এই কারণেই কুরআন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—
وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلًا
“আল্লাহর চেয়ে কথায় আর কে অধিক সত্যবাদী?” (৪:১২২)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়,
সত্যের মানদণ্ড মানুষের আবেগ, লাভ-লোকসান বা পরিস্থিতি নয়;
সত্যের মানদণ্ড হলো আল্লাহর বাণী।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে কেন্দ্র করে জীবন গড়ে তোলে, তার কথা, সিদ্ধান্ত ও সাক্ষ্য সবকিছু সত্যনিষ্ঠ হয়ে যায়।
বন্ধুগণ,
তাকওয়ার পথে চলতে গেলে সত্য অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
কারণ সত্য সব সময় সুবিধা দেয় না,
সত্য আপস করে না,
সত্য নিজের জন্য আলাদা রাস্তা পরিষ্কার করে না। এজন্যই কুরআন আমাদের আগে থেকেই সতর্ক করে দেয়।
আল্লাহ বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হও, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও—even যদি তা তোমাদের নিজের বিরুদ্ধেও হয়” (৪:১৩৫)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়,
তাকওয়া কেবল অনুভূতির নাম নয়।
তাকওয়া মানে নৈতিক সাহস—
নিজের বিপক্ষে হলেও সত্য বলা,
নিজের ক্ষতি হলেও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো।
বন্ধুগণ,
এখান থেকেই তাকওয়ার দ্বিতীয় বড় স্তরটি সামনে আসে তাহলো —ন্যায়বিচার।
কুরআনের ভাষায় ন্যায়বিচার তাকওয়ার একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করে। আল্লাহ বলেন—
اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى
“ন্যায়বিচার করো—এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী” (৫:৮)।
এই আয়াত আমাদের থামিয়ে ভাবতে বাধ্য করে।
এখানে আল্লাহ যেন স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছেন—
যে ব্যক্তি ন্যায়বিচার করে না,
তার তাকওয়ার দাবি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
বন্ধুগণ,
ন্যায়বিচার মানে শুধু আদালত,
বিচারক বা রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা নয়।
ন্যায়বিচার মানে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তে ইনসাফ করা—
পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, লেনদেনে, বন্ধুত্বে, এমনকি মতবিরোধের সময়ও।
এই কারণেই কুরআন সতর্ক করে দিয়ে বলে—
وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا
“কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না করে” (৫:৮)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়,
তাকওয়া মানে পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে ওঠা।
এমনকি যাদের আমরা অপছন্দ করি,
যাদের সঙ্গে শত্রুতা আছে—
তাদের ক্ষেত্রেও ন্যায়ের সীমা অতিক্রম না করা।
বন্ধুগণ,
এই ন্যায়ভিত্তিক তাকওয়া সমাজে ভারসাম্য তৈরি করে।
কারণ যেখানে ন্যায় থাকে,
সেখানে জুলুম থাকতে না।
কুরআন বারবার জুলুম থেকে দূরে থাকতে বলে,
এবং পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়—
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের ভালোবাসেন না” (৩:৫৭)।
এই আয়াত তাকওয়ার সামাজিক দিকটি আমাদের সামনে তুলে ধরে—
যেখানে একজন মোমিন নিজের লাভ-লোকসানের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে বড় করে দেখে।
বন্ধুগণ,
সত্যবাদিতা ও ন্যায়বিচার মানুষের বাহ্যিক আচরণকে শুদ্ধ করে।
আর তাকওয়ার তৃতীয় স্তর রাগ সংযম মানুষের ভেতরের জগতকে শুদ্ধ করে।
কুরআন মুত্তাকিদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলে—
وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ
“যারা রাগ সংযত করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে” (৩:১৩৪)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়,
তাকওয়া মানে শুধু বাহ্যিক আনুগত্য নয়;
তাকওয়া মানে নিজের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
বন্ধুগণ,
রাগ মানুষের সবচেয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে।
আর এই তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত থেকেই অধিকাংশ অন্যায় জন্ম নেয়।
এজন্যই কুরআন তাকওয়ার পথে চলা মানুষকে ধৈর্যশীল ও সংযত হতে শেখায়।
কারণ যে ব্যক্তি নিজের রাগকে থামাতে পারে,
সে অনেক বড় অন্যায় থেকেও নিজেকে বাঁচাতে পারে।
বন্ধুগণ,
কুরআন রাগ সংযমের সঙ্গে ক্ষমাশীলতাকে যুক্ত করে একটি উচ্চ নৈতিক মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
কারণ ক্ষমা দুর্বলতার পরিচয় নয়;
বরং এটি আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে সংযত করার পরিচয়।
আল্লাহ বলেন—
فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ
“যে ক্ষমা করে এবং সংশোধন করে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে” (৪২:৪০)।
এই আয়াত তাকওয়ার ভেতরের সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে—যেখানে মানুষ প্রতিশোধের পথ না বেছে সংশোধনের পথ বেছে নেয়।
বন্ধুগণ,
সত্যবাদিতা মানুষকে মিথ্যা থেকে রক্ষা করে,
ন্যায়বিচার মানুষকে জুলুম থেকে রক্ষা করে,
আর রাগ সংযম মানুষকে আত্মবিনাশ থেকে রক্ষা করে। এই তিনটি গুণ একত্রে একজন মোমিনকে সামাজিক ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল তৈরী করে।
আর এই স্থিতিশীলতাই তাকওয়ার বাস্তব রূপ।
বন্ধুগণ,
কুরআন তাকওয়াকে কোনো বিচ্ছিন্ন সাধনা নয়,
বরং একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করে—
যেখানে কথা, কাজ ও অনুভূতি সবকিছু আল্লাহর নির্দেশনার আলোয় পরিচালিত হয়।
এই কারণেই তাকওয়া অর্জন সময়সাপেক্ষ,
ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা এক সচেতন যাত্রা।
বন্ধুগণ,
সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার ও রাগ সংযম।
এই গুণগুলো ছাড়া তাকওয়া কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
অথচ কুরআন চায় তাকওয়া জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হোক।
বন্ধুগণ,
তাকওয়ার পথচলা যখন সালাত, সিয়াম, দান, সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার ও রাগ সংযমের মধ্য দিয়ে একজন মোমিনকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলে,
তখন এই যাত্রার শেষ প্রান্তে এসে দুটি স্তর খুব শক্তভাবে সামনে এসে দাঁড়ায়।
এই দুটি স্তর পুরো সাধনাকে স্থায়ী রূপ দেয়।
একটি হলো হারাম বর্জন,
আর অন্যটি হলো ধৈর্য।
কারণ এই দুটি গুণ ছাড়া তাকওয়া অনেক সময় শুধু মুহূর্তের অনুভূতি হয়ে থাকে,
কিন্তু মানুষের চরিত্রে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিতে পারে না।
কুরআন তাকওয়াকে কোনো সাময়িক আবেগ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় না।
কুরআন তাকওয়াকে করতে চায়,
মানুষের জিবনে স্থায়ী—
যা মানুষকে প্রতিদিন, প্রতিটি সিদ্ধান্তে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে রাখে।
আর এই স্থায়িত্বের মূল ভিত্তি হলো হারাম বর্জন ও ধৈর্য ধারণ।
বন্ধুগণ,
হারাম বর্জন মানে শুধু কিছু নিষিদ্ধ জিনিসের তালিকা মুখস্থ করা নয়।
হারাম বর্জন মানে আল্লাহর নির্ধারিত সীমার প্রতি গভীর সম্মান তৈরি করা।
কুরআন খুব স্পষ্টভাবে বলে—
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا
“এগুলো আল্লাহর সীমা—তোমরা এর নিকটবর্তীও হয়ো না” (২:১৮৭)।
খেয়াল করুন বন্ধুগণ,
আল্লাহ এখানে বলেননি শুধু ‘লঙ্ঘন করো না’।
তিনি বলেছেন—‘নিকটবর্তীও হয়ো না’।
এর মানে হলো, তাকওয়া শুধু অপরাধ না করার নাম নয়।
তাকওয়া হলো সেই সব পথ থেকেও দূরে থাকার নাম,
যেগুলো মানুষকে ধীরে ধীরে সীমা অতিক্রমের দিকে নিয়ে যায়।
বন্ধুগণ,
হারাম বর্জন তাকওয়ার এমন একটি স্তর যেখানে মানুষের বিবেক সবসময় সক্রিয় থাকে।
এখানে কোনো বাহ্যিক নজরদারি থাকে না, কোনো মানুষ দেখছে কি না—তার হিসাব থাকে না। তবু মানুষ নিজেকে থামিয়ে দেয়। কেন? কারণ তার মনে এই সচেতনতা থাকে—আল্লাহ দেখছেন।
এই কারণেই কুরআন মুত্তাকিদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলে—
الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ
“যারা অদৃশ্যে থেকেও তাদের রবকে ভয় করে” (২১:৪৯)।
এই ভয় কোনো আতঙ্ক নয়।
এটি হলো দায়িত্ববোধ,
সচেতনতা ও আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার মিশ্র অনুভূতি।
এই অনুভূতিই মানুষকে হারামের সীমানা থেকে দূরে রাখে।
বন্ধুগণ,
অনেক সময় আমরা তাকওয়াকে শুধু কিছু করণীয় কাজের তালিকা হিসেবে দেখি।
কিন্তু কুরআন আমাদের শেখায়—তাকওয়ার একটি বড় অংশ হলো কিছু না করা।
নিজেকে থামানো। নিজের ইচ্ছাকে সীমার ভেতরে রাখা।
এই না–করার শক্তিই নিজে পাকাপোক্ত করে তোলে।
কারণ যে ব্যক্তি সবকিছু করার ক্ষমতা রাখে,
কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিছু ছেড়ে দেয়—
সে ব্যক্তিই প্রকৃত অর্থে মুক্ত।
বন্ধুগণ,
হারাম বর্জনের এই সচেতন জীবনধারা মানুষকে আত্মসম্মান শেখায়।
কারণ সে জানে—আমি যা করছি না, তা দুর্বলতার কারণে নয়।
বরং আমি আল্লাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি বলেই করছি না।
এই কারণেই কুরআন তাকওয়াকে মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে বলে—
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকি” (৪৯:১৩)।
বন্ধুগণ,
তাকওয়ার শেষ স্তরটি হলো ধৈর্য।
এই ধৈর্যই পুরো পথচলাকে টিকিয়ে রাখে।
কারণ ধৈর্য ছাড়া কোনো সাধনাই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কুরআন ধৈর্যকে এমন একটি গুণ হিসেবে তুলে ধরে,
যার সঙ্গে আল্লাহর বিশেষ সম্পর্ক যুক্ত।
আল্লাহ বলেন—
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন” (২:১৫৩)।
এই ‘সঙ্গে থাকা’ শুধু পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়।
এটি পথচলায় সহায়তা, অন্তরের শক্তি এবং হৃদয়ের প্রশান্তির ঘোষণা।
বন্ধুগণ,
ধৈর্য মানে নিস্ক্রিয় হয়ে বসে থাকা নয়।
ধৈর্য মানে হতাশ না হওয়া, তাড়াহুড়া না করা,
এবং আল্লাহর পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখা।
কুরআন ধৈর্যের নানা রূপ আমাদের সামনে তুলে ধরে—ইবাদতে ধৈর্য, পাপ বর্জনে ধৈর্য, আর বিপদের সময় ধৈর্য।
কারণ তাকওয়ার পথে চলতে এই তিন ধরনের ধৈর্যই প্রয়োজন।
এই কারণেই কুরআন মুত্তাকিদের গুণের তালিকায় বারবার ধৈর্যের কথা উল্লেখ করে—
وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ
“যারা কষ্টে, দুর্দশায় ও সংকটের সময় ধৈর্য ধারণ করে” (২:১৭৭)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়, তাকওয়া শুধু স্বচ্ছল সময়ের ধর্ম নয়।
তাকওয়া মানে চাপের ভেতরেও আল্লাহর সীমা বজায় রাখা।
বন্ধুগণ,
ধৈর্য মানুষকে স্থির রাখে,
আর এই স্থিরতাই মানুষকে খারাবি থেকে রক্ষা করে।
যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে, সে হঠাৎ সিদ্ধান্তে আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে না।
সে জানে—আজ নিজেকে থামাতে পারলেই আগামীকাল এগোনো সহজ হবে।
বন্ধুগণ,
হারাম বর্জন মানুষকে সীমা চিনিয়ে দেয়,
আর ধৈর্য মানুষকে সেই সীমার ভেতরে টিকে থাকার শক্তি দেয়।
এই দুইটি গুণ একত্রে তাকওয়ার সাধনাকে দীর্ঘমেয়াদি করে তোলে।
কারণ তাকওয়া কোনো হঠাৎ অর্জন নয়; এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের সমষ্টি।
এই কারণেই কুরআন মুত্তাকিদের সফল ঘোষণা করে বলে—
أُولَٰئِكَ عَلَىٰ هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
“তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে সঠিক পথের উপর রয়েছে, এবং তারাই সফল” (২:৫)।
এই সফলতা কেবল আখিরাতের জন্য নয়।
এটি দুনিয়ার জীবনেও প্রশান্তি, ভারসাম্য ও নিজেকে ঠিক রাখার প্রকাশ।
বন্ধুগণ,
এখন আমাদের সামনে তাকওয়ার পথে পথচলার একটি পূর্ণ কাঠামো আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ালো—
সালাত শিখিয়েছে শৃঙ্খলা, সিয়াম শিখিয়েছে সংযম,
দান ভেঙেছে আত্ন অহংকার,
সত্যবাদিতা দিয়েছে নৈতিকতা,
ন্যায়বিচার এনেছে সামাজিক ভারসাম্য,
রাগ সংযম দিয়েছে মানসিক নিয়ন্ত্রণ,
হারাম বর্জন এঁকেছে সচেতন সীমারেখা,
আর ধৈর্য পুরো যাত্রাকে দিয়েছে স্থায়িত্ব।
বন্ধুগণ,
এখানেই আমরা গভীরভাবে বুঝতে পারি—
তাকওয়া কোনো এক মাসের সাধনা নয়।
তাকওয়া হলো সারাজীবনের সচেতন পথচলা।
যেখানে প্রতিটি দিন একটি প্রশিক্ষণ,
প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি পরীক্ষা,
আর প্রতিটি সংযম একটি অগ্রগতি।
আজ এপর্যন্তই,
ভিডিওটি সম্পুর্ণ দেখার জন্য ধন্যবাদ।
আশা করি কুরআনের বন্ধু হবেন,
আশা করি কুরআনের সাথেই থাকবেন।
আবার দেখা হবে অন্য কোন ভিডিওতে।
ততক্ষণ আপনার সুসাস্থ ও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করি।
সালামুন আলাইকুম রহমাতুল্লাহি ওয় বারকাতুহ।
এই আয়াতে আল্লাহ আমাদের জানিয়ে দেন,
সত্যবাদিতা তাকওয়ার আলাদা কোনো গুণ নয়;
বরং এটি তাকওয়ার সরাসরি ফল।
কারণ তাকওয়া না থাকলে সত্য টিকে না,
আর সত্য ছাড়া তাকওয়া পূর্ণতা পায় না।
বন্ধুগণ,
সত্যবাদিতা মানে শুধু মিথ্যা কথা না বলা নয়। সত্যবাদিতা মানে নিজের অবস্থান পরিষ্কার রাখা,
নিজের ভুল হলে তা স্বীকার করার সাহস রাখা,
আর চাপের মুখেও সত্যের পক্ষেই দাঁড়িয়ে থাকা।
এই কারণেই কুরআন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—
وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلًا
“আল্লাহর চেয়ে কথায় আর কে অধিক সত্যবাদী?” (৪:১২২)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়,
সত্যের মানদণ্ড মানুষের আবেগ, লাভ-লোকসান বা পরিস্থিতি নয়;
সত্যের মানদণ্ড হলো আল্লাহর বাণী।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে কেন্দ্র করে জীবন গড়ে তোলে, তার কথা, সিদ্ধান্ত ও সাক্ষ্য সবকিছু সত্যনিষ্ঠ হয়ে যায়।
বন্ধুগণ,
তাকওয়ার পথে চলতে গেলে সত্য অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
কারণ সত্য সব সময় সুবিধা দেয় না,
সত্য আপস করে না,
সত্য নিজের জন্য আলাদা রাস্তা পরিষ্কার করে না। এজন্যই কুরআন আমাদের আগে থেকেই সতর্ক করে দেয়।
আল্লাহ বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হও, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও—even যদি তা তোমাদের নিজের বিরুদ্ধেও হয়” (৪:১৩৫)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়,
তাকওয়া কেবল অনুভূতির নাম নয়।
তাকওয়া মানে নৈতিক সাহস—
নিজের বিপক্ষে হলেও সত্য বলা,
নিজের ক্ষতি হলেও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো।
বন্ধুগণ,
এখান থেকেই তাকওয়ার দ্বিতীয় বড় স্তরটি সামনে আসে তাহলো —ন্যায়বিচার।
কুরআনের ভাষায় ন্যায়বিচার তাকওয়ার একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করে। আল্লাহ বলেন—
اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى
“ন্যায়বিচার করো—এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী” (৫:৮)।
এই আয়াত আমাদের থামিয়ে ভাবতে বাধ্য করে।
এখানে আল্লাহ যেন স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছেন—
যে ব্যক্তি ন্যায়বিচার করে না,
তার তাকওয়ার দাবি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
বন্ধুগণ,
ন্যায়বিচার মানে শুধু আদালত,
বিচারক বা রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা নয়।
ন্যায়বিচার মানে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তে ইনসাফ করা—
পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, লেনদেনে, বন্ধুত্বে, এমনকি মতবিরোধের সময়ও।
এই কারণেই কুরআন সতর্ক করে দিয়ে বলে—
وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا
“কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না করে” (৫:৮)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়,
তাকওয়া মানে পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে ওঠা।
এমনকি যাদের আমরা অপছন্দ করি,
যাদের সঙ্গে শত্রুতা আছে—
তাদের ক্ষেত্রেও ন্যায়ের সীমা অতিক্রম না করা।
বন্ধুগণ,
এই ন্যায়ভিত্তিক তাকওয়া সমাজে ভারসাম্য তৈরি করে।
কারণ যেখানে ন্যায় থাকে,
সেখানে জুলুম থাকতে না।
কুরআন বারবার জুলুম থেকে দূরে থাকতে বলে,
এবং পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়—
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের ভালোবাসেন না” (৩:৫৭)।
এই আয়াত তাকওয়ার সামাজিক দিকটি আমাদের সামনে তুলে ধরে—
যেখানে একজন মোমিন নিজের লাভ-লোকসানের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে বড় করে দেখে।
বন্ধুগণ,
সত্যবাদিতা ও ন্যায়বিচার মানুষের বাহ্যিক আচরণকে শুদ্ধ করে।
আর তাকওয়ার তৃতীয় স্তর রাগ সংযম মানুষের ভেতরের জগতকে শুদ্ধ করে।
কুরআন মুত্তাকিদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলে—
وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ
“যারা রাগ সংযত করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে” (৩:১৩৪)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়,
তাকওয়া মানে শুধু বাহ্যিক আনুগত্য নয়;
তাকওয়া মানে নিজের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
বন্ধুগণ,
রাগ মানুষের সবচেয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে।
আর এই তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত থেকেই অধিকাংশ অন্যায় জন্ম নেয়।
এজন্যই কুরআন তাকওয়ার পথে চলা মানুষকে ধৈর্যশীল ও সংযত হতে শেখায়।
কারণ যে ব্যক্তি নিজের রাগকে থামাতে পারে,
সে অনেক বড় অন্যায় থেকেও নিজেকে বাঁচাতে পারে।
বন্ধুগণ,
কুরআন রাগ সংযমের সঙ্গে ক্ষমাশীলতাকে যুক্ত করে একটি উচ্চ নৈতিক মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
কারণ ক্ষমা দুর্বলতার পরিচয় নয়;
বরং এটি আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে সংযত করার পরিচয়।
আল্লাহ বলেন—
فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ
“যে ক্ষমা করে এবং সংশোধন করে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে” (৪২:৪০)।
এই আয়াত তাকওয়ার ভেতরের সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে—যেখানে মানুষ প্রতিশোধের পথ না বেছে সংশোধনের পথ বেছে নেয়।
বন্ধুগণ,
সত্যবাদিতা মানুষকে মিথ্যা থেকে রক্ষা করে,
ন্যায়বিচার মানুষকে জুলুম থেকে রক্ষা করে,
আর রাগ সংযম মানুষকে আত্মবিনাশ থেকে রক্ষা করে। এই তিনটি গুণ একত্রে একজন মোমিনকে সামাজিক ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল তৈরী করে।
আর এই স্থিতিশীলতাই তাকওয়ার বাস্তব রূপ।
বন্ধুগণ,
কুরআন তাকওয়াকে কোনো বিচ্ছিন্ন সাধনা নয়,
বরং একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করে—
যেখানে কথা, কাজ ও অনুভূতি সবকিছু আল্লাহর নির্দেশনার আলোয় পরিচালিত হয়।
এই কারণেই তাকওয়া অর্জন সময়সাপেক্ষ,
ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা এক সচেতন যাত্রা।
বন্ধুগণ,
সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার ও রাগ সংযম।
এই গুণগুলো ছাড়া তাকওয়া কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
অথচ কুরআন চায় তাকওয়া জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হোক।
বন্ধুগণ,
তাকওয়ার পথচলা যখন সালাত, সিয়াম, দান, সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার ও রাগ সংযমের মধ্য দিয়ে একজন মোমিনকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলে,
তখন এই যাত্রার শেষ প্রান্তে এসে দুটি স্তর খুব শক্তভাবে সামনে এসে দাঁড়ায়।
এই দুটি স্তর পুরো সাধনাকে স্থায়ী রূপ দেয়।
একটি হলো হারাম বর্জন,
আর অন্যটি হলো ধৈর্য।
কারণ এই দুটি গুণ ছাড়া তাকওয়া অনেক সময় শুধু মুহূর্তের অনুভূতি হয়ে থাকে,
কিন্তু মানুষের চরিত্রে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিতে পারে না।
কুরআন তাকওয়াকে কোনো সাময়িক আবেগ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় না।
কুরআন তাকওয়াকে করতে চায়,
মানুষের জিবনে স্থায়ী—
যা মানুষকে প্রতিদিন, প্রতিটি সিদ্ধান্তে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে রাখে।
আর এই স্থায়িত্বের মূল ভিত্তি হলো হারাম বর্জন ও ধৈর্য ধারণ।
বন্ধুগণ,
হারাম বর্জন মানে শুধু কিছু নিষিদ্ধ জিনিসের তালিকা মুখস্থ করা নয়।
হারাম বর্জন মানে আল্লাহর নির্ধারিত সীমার প্রতি গভীর সম্মান তৈরি করা।
কুরআন খুব স্পষ্টভাবে বলে—
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا
“এগুলো আল্লাহর সীমা—তোমরা এর নিকটবর্তীও হয়ো না” (২:১৮৭)।
খেয়াল করুন বন্ধুগণ,
আল্লাহ এখানে বলেননি শুধু ‘লঙ্ঘন করো না’।
তিনি বলেছেন—‘নিকটবর্তীও হয়ো না’।
এর মানে হলো, তাকওয়া শুধু অপরাধ না করার নাম নয়।
তাকওয়া হলো সেই সব পথ থেকেও দূরে থাকার নাম,
যেগুলো মানুষকে ধীরে ধীরে সীমা অতিক্রমের দিকে নিয়ে যায়।
বন্ধুগণ,
হারাম বর্জন তাকওয়ার এমন একটি স্তর যেখানে মানুষের বিবেক সবসময় সক্রিয় থাকে।
এখানে কোনো বাহ্যিক নজরদারি থাকে না, কোনো মানুষ দেখছে কি না—তার হিসাব থাকে না। তবু মানুষ নিজেকে থামিয়ে দেয়। কেন? কারণ তার মনে এই সচেতনতা থাকে—আল্লাহ দেখছেন।
এই কারণেই কুরআন মুত্তাকিদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলে—
الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ
“যারা অদৃশ্যে থেকেও তাদের রবকে ভয় করে” (২১:৪৯)।
এই ভয় কোনো আতঙ্ক নয়।
এটি হলো দায়িত্ববোধ,
সচেতনতা ও আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার মিশ্র অনুভূতি।
এই অনুভূতিই মানুষকে হারামের সীমানা থেকে দূরে রাখে।
বন্ধুগণ,
অনেক সময় আমরা তাকওয়াকে শুধু কিছু করণীয় কাজের তালিকা হিসেবে দেখি।
কিন্তু কুরআন আমাদের শেখায়—তাকওয়ার একটি বড় অংশ হলো কিছু না করা।
নিজেকে থামানো। নিজের ইচ্ছাকে সীমার ভেতরে রাখা।
এই না–করার শক্তিই নিজে পাকাপোক্ত করে তোলে।
কারণ যে ব্যক্তি সবকিছু করার ক্ষমতা রাখে,
কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিছু ছেড়ে দেয়—
সে ব্যক্তিই প্রকৃত অর্থে মুক্ত।
বন্ধুগণ,
হারাম বর্জনের এই সচেতন জীবনধারা মানুষকে আত্মসম্মান শেখায়।
কারণ সে জানে—আমি যা করছি না, তা দুর্বলতার কারণে নয়।
বরং আমি আল্লাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি বলেই করছি না।
এই কারণেই কুরআন তাকওয়াকে মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে বলে—
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকি” (৪৯:১৩)।
বন্ধুগণ,
তাকওয়ার শেষ স্তরটি হলো ধৈর্য।
এই ধৈর্যই পুরো পথচলাকে টিকিয়ে রাখে।
কারণ ধৈর্য ছাড়া কোনো সাধনাই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কুরআন ধৈর্যকে এমন একটি গুণ হিসেবে তুলে ধরে,
যার সঙ্গে আল্লাহর বিশেষ সম্পর্ক যুক্ত।
আল্লাহ বলেন—
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন” (২:১৫৩)।
এই ‘সঙ্গে থাকা’ শুধু পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়।
এটি পথচলায় সহায়তা, অন্তরের শক্তি এবং হৃদয়ের প্রশান্তির ঘোষণা।
বন্ধুগণ,
ধৈর্য মানে নিস্ক্রিয় হয়ে বসে থাকা নয়।
ধৈর্য মানে হতাশ না হওয়া, তাড়াহুড়া না করা,
এবং আল্লাহর পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখা।
কুরআন ধৈর্যের নানা রূপ আমাদের সামনে তুলে ধরে—ইবাদতে ধৈর্য, পাপ বর্জনে ধৈর্য, আর বিপদের সময় ধৈর্য।
কারণ তাকওয়ার পথে চলতে এই তিন ধরনের ধৈর্যই প্রয়োজন।
এই কারণেই কুরআন মুত্তাকিদের গুণের তালিকায় বারবার ধৈর্যের কথা উল্লেখ করে—
وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ
“যারা কষ্টে, দুর্দশায় ও সংকটের সময় ধৈর্য ধারণ করে” (২:১৭৭)।
এই আয়াত আমাদের শেখায়, তাকওয়া শুধু স্বচ্ছল সময়ের ধর্ম নয়।
তাকওয়া মানে চাপের ভেতরেও আল্লাহর সীমা বজায় রাখা।
বন্ধুগণ,
ধৈর্য মানুষকে স্থির রাখে,
আর এই স্থিরতাই মানুষকে খারাবি থেকে রক্ষা করে।
যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে, সে হঠাৎ সিদ্ধান্তে আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে না।
সে জানে—আজ নিজেকে থামাতে পারলেই আগামীকাল এগোনো সহজ হবে।
বন্ধুগণ,
হারাম বর্জন মানুষকে সীমা চিনিয়ে দেয়,
আর ধৈর্য মানুষকে সেই সীমার ভেতরে টিকে থাকার শক্তি দেয়।
এই দুইটি গুণ একত্রে তাকওয়ার সাধনাকে দীর্ঘমেয়াদি করে তোলে।
কারণ তাকওয়া কোনো হঠাৎ অর্জন নয়; এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের সমষ্টি।
এই কারণেই কুরআন মুত্তাকিদের সফল ঘোষণা করে বলে—
أُولَٰئِكَ عَلَىٰ هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
“তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে সঠিক পথের উপর রয়েছে, এবং তারাই সফল” (২:৫)।
এই সফলতা কেবল আখিরাতের জন্য নয়।
এটি দুনিয়ার জীবনেও প্রশান্তি, ভারসাম্য ও নিজেকে ঠিক রাখার প্রকাশ।
বন্ধুগণ,
এখন আমাদের সামনে তাকওয়ার পথে পথচলার একটি পূর্ণ কাঠামো আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ালো—
সালাত শিখিয়েছে শৃঙ্খলা, সিয়াম শিখিয়েছে সংযম,
দান ভেঙেছে আত্ন অহংকার,
সত্যবাদিতা দিয়েছে নৈতিকতা,
ন্যায়বিচার এনেছে সামাজিক ভারসাম্য,
রাগ সংযম দিয়েছে মানসিক নিয়ন্ত্রণ,
হারাম বর্জন এঁকেছে সচেতন সীমারেখা,
আর ধৈর্য পুরো যাত্রাকে দিয়েছে স্থায়িত্ব।
বন্ধুগণ,
এখানেই আমরা গভীরভাবে বুঝতে পারি—
তাকওয়া কোনো এক মাসের সাধনা নয়।
তাকওয়া হলো সারাজীবনের সচেতন পথচলা।
যেখানে প্রতিটি দিন একটি প্রশিক্ষণ,
প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি পরীক্ষা,
আর প্রতিটি সংযম একটি অগ্রগতি।
আজ এপর্যন্তই,
ভিডিওটি সম্পুর্ণ দেখার জন্য ধন্যবাদ।
আশা করি কুরআনের বন্ধু হবেন,
আশা করি কুরআনের সাথেই থাকবেন।
আবার দেখা হবে অন্য কোন ভিডিওতে।
ততক্ষণ আপনার সুসাস্থ ও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করি।
সালামুন আলাইকুম রহমাতুল্লাহি ওয় বারকাতুহ।
0 Comments